April 19, 2026, 12:40 pm

রক্তে ভেজা সড়ক : এর শেষ কোথায় ? : বাংলাদেশ ন্যাপ

রামপুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মাঈনুদ্দিন নিহতের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, একের পর এক ঘটনার মধ্য দিয়ে বার বার প্রমানিত হচ্ছে সড়ক পথে নৈরাজ্য চলছেই। প্রতিদিনই কারও না কারও রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে রাজপথ। কবে বন্ধ হবে এই নৈরাজ্য।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, সড়ক পথে নৈরাজ্যের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় প্রাণ ঝরে যাচ্ছে প্রতিদিন- এর যেন কোনো শেষ নেই, বিচার নেই। সড়ক পরিবহনের নৈরাজ্য বন্ধে শুধু আইন করলেই চলবে না পাশাপাশি আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের মানসিকতা পরিবর্তন করার দায়িত্ব যাদের তাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই ধরনের ঘটনা বারবার পুনরাবৃত্তি হওয়ার জন্য এবং এর প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার জন্যই বারবার এই সকল হত্যাকান্ড ঘটছে। সরকার যদি এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার চেষ্টা না করে তাহলে এই ধরনের হত্যাকান্ড কমানো যাবে না।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গত বছরের জুলাই ও চলতি বছরের ১৯ মার্চ দুটি সড়ক দুর্ঘটনার পর ছাত্ররা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলায় তারাই এখন বেপরোয়া পরিবহন শ্রমিকদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশ ও বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও সড়ক পরিবহন খাতে বিরাজমান নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দূর করা যায়নি।

তারা বলেন, মূলত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতার কাছে প্রশাসন অসহায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া এর পেছনে বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এক শ্রেণীর পুলিশ সদস্যর অনিয়ম-দুর্নীতিও রয়েছে। ফলে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা কঠোর নির্দেশনায়ও গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরছে না। এ অসহনীয় পরিস্থিতিতে সারা দেশে সড়ক পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা নিরসন এবং সড়ক দুর্ঘটনা ও অনাকাংখিত প্রাণহানি হ্রাসে সড়কে সেনাবাহিনী নামানো উচিত। তা না হলে সড়কে এভাবে প্রাণ ঝরতেই থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা